বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুর-১ আসন, স্বামী লড়ছেন লাঙ্গল প্রতীকে, ভোটের মাঠে নেই স্ত্রী, এলাকায় কৌতুহল

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। আর তাঁর স্ত্রী সুফিয়া রহমান আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও নেতাদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। স্বামী স্ত্রীর এমন অবস্থানের নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শরীয়তপুর নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলা ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-০১ আসন। এই আসনে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৪২৮ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১০ জন। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১১ জন। আসনটিতে ২টি পৌরসভা ও ২৩টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।
শরীয়তপুর- ০১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জজকোর্টের আইনজীবী মাসুদুর রহমান মাসুদ। তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আবুল বাশার মাদবর, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুস সামাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তখন তাঁর স্ত্রী সুফিয়া রহমান মহিলা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর তাঁকে শরীয়তপুর সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দেওয়া হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাসুদুর রহমান মুসুদ আবার জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। জেলার সভাপতির পদ পান। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী সুফিয়া রহমান মহিলা আওয়ামী লীগেই থেকে যান।
সুফিয়া রহমান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নৌকা প্রতীকের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ভোট চাচ্ছেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরছেন। নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ভবিষ্যতে কী কী উন্নয়ন করা হবে, তার নানা প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন।
আজ শনিবার শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নৌকার প্রার্থীর স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের সঙ্গে সুফিয়া রহমান মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালান। বিভিন্ন গ্রামে নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন।
সুফিয়া রহমান বলেন, ‘আমার স্বামী জাতীয় পার্টি করেন। পাঁচ বছর ধরে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তিনি লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী। তাঁর মতো তিনি রাজনীতি করছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য ভোট চাইছেন। আবার আমি আমার দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছি। ঘরে আমরা একে অপরের কথা শুনে চলি। কিন্তু রাজনীতির মাঠে দুজন আলাদা পথে হাঁটছি। এতে কেউ কাউকে বাধা দিচ্ছি না, প্রভাবিত করারও চেষ্টা করছি না।’
মহিলা আওয়ামী লীগের শরীয়তপুর জেলা সভাপতি সামিনা ইয়াছমিন বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী দুই প্রতীকের নির্বাচন করছেন, এতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা দেখছি না। তবে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা আছে।’

শরীয়তপুর পৌরসভার পালং এলাকার ভোটার মজিবুর রহমান, আতাউর রহমানসহ কয়েকজন বলেন, শরীয়তপুর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে দলটির নেতা-কর্মীর কোনো অভাব নেই। তারপরও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর স্ত্রীকে কেন নৌকা প্রতীকের ভোট চাইতে নিতে হবে। বিষয়টি বুঝলাম না।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ‘সুফিয়া আর আমি সুখী দম্পতি। আমাদের তিন মেয়ে আছে। সংসদ নির্বাচনে নিজে প্রার্থী হলেও তাঁকে আমার পক্ষে কাজ করার জন্য বলিনি। রাজনীতিতে আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও পারিবারিক জীবনে কোনো সমস্যা নেই আমাদের।