বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

সারাদেশে নজরে ১০১ আসন

ঢাকা বিভাগে ১৮টি, বরিশালে ৬টি, চট্টগ্রামে ১৬টি, সিলেটে ৮টি, রাজশাহীতে ২০টি, ময়মনসিংহে ৮টি, খুলনায় ১১টি এবং রংপুরে ১৪টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন ভোটাররা।

রাত পোহালেই সারাদেশে ২৯৯ আসনে ভোট। প্রচার শেষ হয়েছে শুক্রবার সকালেই। ভোটাররাও কাকে ভোট দেবেন তা প্রায় ঠিক করে ফেলেছেন।

বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে অধিকাংশ স্থানেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সহজে জয় পাবেন এমনটা মনে করছেন সেসব এলাকার ভোটাররা। দলেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও জয়ের বন্দরে নৌকা ভিড়তে বিশেষ বেগ পেতে হবে না।

আওয়ামী লীগ সমঝোতার ভিত্তিতে ২৬টি আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে। সেখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নেই; তবে কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন।

এ ছাড়া ১৪ দলকে ছেড়ে দেওয়া ছয়টি আসনেও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। সব কটি আসনে তাদের জয় গত নির্বাচনের মত সহজ নাও হতে পারে বলে অভিমত স্থানীয় ভোটারদের।

দল থেকে কোনো বাধা না থাকায় নৌকায় মাঝি হতে ব্যর্থ অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। কোনো কোনো আসনে তিন-চারজনও প্রার্থী হয়েছেন। এসব আসনে নৌকার মাঝিরা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

আট বিভাগের ৬৪ জেলার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন ১০১টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে সারাদেশের মানুষের নজর থাকবে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এ সংখ্যাটি কম-বেশিও হতে পারে।

এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮টি, বরিশালে ৬টি, চট্টগ্রামে ১৬টি, সিলেটে ৮টি, রাজশাহীতে ২০টি, ময়মনসিংহে ৮টি, খুলনায় ১১টি এবং রংপুরে ১৪টি আসন রয়েছে।

ঢাকা-১: দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী সালমান এফ রহমান। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী দলটির কো-চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাইছে না। তীব্র লড়াই হবে।

এ ছাড়া এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

ঢাকা-১৯: ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জং।

ধামসোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলামও ভাল অবস্থানে আছেন। এখানে আরও সাত প্রার্থী আছেন।

ঢাকা-৪: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮ ও ৫৯ আসন নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানমকে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া আওলাদ হোসেনও আছেন ভোটের দৌড়ে।

গত দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড় দেওয়ায় এখানে জিতেছিলেন জাতীয় পার্টির আবু হোসেন বাবলা। এবার ছাড় না পেয়ে লাঙ্গল প্রতীকে লড়াই করছেন দলের কো-চেয়ারম্যান। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোটের জয়-পরাজয়ের হিসাব জটিল হয়ে পড়েছে। এখানে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

ঢাকা-৫: ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ এবং ৭০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নৌকার প্রার্থী হারুনুর রশীদ মুন্নার সঙ্গে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী মো. কামরুল হাসান (ঈগল) ও মশিউর রহমান মোল্লা সজলের (ট্রাক) লড়াই হবে।

এখানে আরও ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।

ঢাকা-১৮: উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত এলাকায় বিস্তৃত এই আসনটি সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদের।

তবে আওয়ামী লীগের দুই নেতা এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন- কেটলি প্রতীকের ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. খসরু চৌধুরী এবং ট্রাক প্রতীকের দলের এই কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এস এম তোফাজ্জল হোসেন। তিনজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

মাদারীপুর-৩: কালকিনি ও সদর উপজেলার একাংশ এবং ডাসার থানা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য আব্দুস সোবহান মিয়া গোলাপ। ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় এই প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের বিরুদ্ধে এবার ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য তাহমিনা বেগম। কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন; ভোটে লড়ছেন ঈগল প্রতীক নিয়ে।

এ আসনে নির্বাচনি সহিংসতায় একজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে; হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে অনেকগুলো। এখানে চারজন প্রার্থী আছেন।

ফরিদপুর-৩: সদর আসনে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের নৌকার বিরুদ্ধে শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছেন দলটির জেলা উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শিল্পপতি এ কে আজাদ। ভোটের প্রচারের সময় এখানে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতাও হয়েছে।

এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন। 

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নিক্সন চৌধুরী দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহর সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়োইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

ফরিদপুর-১: বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন।

তার সঙ্গে কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি ঈগল প্রতীকের আরিফুর রহমান দোলন এবং বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফরের লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এই আসনে আরও দুজন প্রার্থী আছেন।

টাঙ্গাইল-৪: কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ট্রাক প্রতীকের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকা মার্কার প্রার্থী মোজাহারুল ইসলাম তালুকদারের লড়াই হবে। লতিফ সিদ্দিকী এখানকার পাঁচবারের সংসদ সদস্য।

সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের মেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সারওয়াত সিরাজ শুক্লাও ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। এখানে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

টাঙ্গাইল-৮: সখিপুর ও বাসাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনুপম শাহজাহান জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এই আসনের আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

শরীয়তপুর-২: নড়িয়া-সখিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। খালেদ আওয়ামী লীগের পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত কর্নেল শওকত আলীর ছেলে।

এই আসনে আরও আটজন প্রার্থী আছেন।

নরসিংদী-৩: শিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী ফজলে রাব্বি খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লার মধ্যে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। হামলা, ভাঙচুর, টাকা ছড়ানো নিয়ে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

এই আসনে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

নরসিংদী-৪: বেলাব ও মনোহরদী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম খান বিরুর।

এই আসনের আরও দুজন প্রার্থী আছেন।

কিশোরগঞ্জ-২: পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ। এখানে ট্রাক প্রতীক নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এবং ঈগল প্রতীকের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহরাব হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে এখানে।

এখানে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

মানিকগঞ্জ-২: সদর (আংশিক), সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের সঙ্গে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ভাল অবস্থানে আছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ।

এখানে আরও সাতজন প্রার্থী আছেন।

মুন্সীগঞ্জ-১: সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের সংসদ সদস্য বিকল্পধারা বাংলাদেশের মাহী বি চৌধুরী। কুলা প্রতীকের এই প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের মহিউদ্দিন আহমেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ট্রাক প্রতীকের গোলাম সারোয়ার কবীরের।

এই আসনে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

মুন্সীগঞ্জ-৩: আওয়ামী লীগের প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবের লড়াই হবে এখানে। ভোটের আগ মুহূর্তে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে; পিটিয়ে আহত করা হয়েছে আরেকজনকে।

এই আসনের আরও আটজন প্রার্থী আছেন।

বরগুনা-১: সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত পাঁচ বারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই হবে।

তারা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু (ঈগল), আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক খলিলুর রহমান (ট্রাক) ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ছরোয়ার ফোরকান (কাঁচি)।

এখানে আরও ছয় প্রার্থী রয়েছেন।

বরিশাল-৬: বরিশাল-৬ আসনে নৌকার প্রার্থী মেজর জেনারেল অব. হাফিজ মল্লিকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সামসুল আলম চুন্নুর। তিনি তিন মেয়াদে বাকেরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন।

এখানে আরও সাতজন প্রার্থী আছেন।

পিরোজপুর-১: সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল।

এ আসনে আরও দুই প্রার্থী রয়েছেন।

পিরোজপুর-২: ভান্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন শরীক দল হিসাবে জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু) চেয়ারম্যান এবং এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন মহারাজ। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

পটুয়াখালী-৩: গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে ভোটের লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী এস এম শাহজাদা এবং স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেনের মধ্যে। শাহাজাদা সাবেক সিইসি কে এম নুরুল হুদার ভাগনে।

এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

পটুয়াখালী-৪: কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মো. মহিব্বুর রহমান মহিব।

এখানে তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার ভোটের মাঠে রয়েছেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল-ইসলাম লিটন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

এখানে আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৩: সন্দীপ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বাচিপের সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এখানে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন। 

চট্টগ্রাম-৮: চান্দগাঁও ও বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে। এখানে লাঙ্গল প্রতীকের সোলায়মান আলম শেঠের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালাম (কেটলি) এবং বিজয় কুমার চৌধুরী কিষানের (ফুলকপি) জোর লড়াই হবে।

এই আসনে প্রার্থী আছে আরও সাতজন।

চট্টগ্রাম-১২: পটিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা মোতাহেরের সঙ্গে স্বতন্ত্র হিসেবে ঈগল প্রতীকে লড়ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ শামসুল হক চৌধুরী।

এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। আসনটিতে বিভিন্ন দলের আরও ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৫: সাতকানিয়া (একাংশ) ও লোহাগাড়া উপজেলা মিলিয়ে এই আসনে নৌকার প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভীর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মোতলেব।

এখানে প্রার্থী আছেন আরও ৫ জন।

চট্টগ্রাম-১৬: বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর (নৌকা) সঙ্গে স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান (ঈগল) ও আবদুল্লাহ কবির লিটনের (ট্রাক) ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও সাতজন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: নাসিরনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।

এখানে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে।

এখানে লাঙ্গলের প্রার্থী মো. রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, তার শ্বশুর দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা এবং আওয়ামী লীগ নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের মধ্যে লড়াই হবে।

এখানে আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুর মোকতাদির চৌধুরী ফের নৌকার মাঝি হয়েছেন। তার সঙ্গে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজুর রহমানের লড়াই হবে।

এই আসনে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

কুমিল্লা-৪: দেবিদ্বার উপজেলার এই আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সদ্য পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এই আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে আছেন আরও ১০ জন।

কুমিল্লা-৫: বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম খান। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুলকপি প্রতীকের সাজ্জাদ হোসেন স্বপন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা কেটলি প্রতীকের এম এ জাহের, একই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাঁচি প্রতীকের জাহাঙ্গীর খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত শওকত মাহমুদ ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন।তাদের মধ্যে লড়াই হবে।

সব মিলে এ  আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে আছেন মোট নয়জন।

কুমিল্লা-৭: চান্দিনা উপজেলার এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল দত্ত। এ আসনে উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু।

ঈগল প্রতীকের প্রার্থী টিটু এই আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত আলী আশরাফের ছেলে। এখানেও ভোটের লড়াই জমে উঠবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে আছেন মোট ৭ প্রার্থী।

নোয়াখালী-২: সেনবাগ-সোনাইমুড়ী উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দুই বারের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের বড় চ্যালেঞ্জ নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাঁচি প্রতীকের আতাউর রহমান ভুইয়া মানিক।

এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নোয়াখালী-৩: বেগমগঞ্জ উপজেলার এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দুবারের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মিনহাজ আহমেদ জাবেদ।

এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

লক্ষ্মীপুর ৪: রামগতি এবং কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জাসদের মোশাররফ হোসেন। তবে তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তারা দুইজন ছাড়া এবার এ আসনে লড়ছেন আরও চারজন।

কক্সবাজার-১: নৌকা প্রতীক শূন্য কক্সবাজার-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমের ট্রাক প্রতীকের সঙ্গে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের হাতঘড়ি প্রতীকের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

চকরিয়া-পেকুয়া নিয়ে গঠিত এই আসনে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

কক্সবাজার-৪: উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী।

শাহীনের সঙ্গে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল বশরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।

এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

সিলেট-২: বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র মুহিবুর রহমানের (ট্রাক) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি। অপরদিকে, মুহিবুর রহমান দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রথম মেয়র। এখানে লড়াইয়ে আছেন গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। এ ছাড়া এখানে আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।

সিলেট-৩: দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান। এখানে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

সিলেট-৫: কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর (কেটলি) এবং আহমদ আল কবিরের (ট্রাক) মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

নৌকার প্রার্থী মাসুক উদ্দিন আহমদ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপরদিকে, মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী আঞ্জুমানে আল-ইসলাহর মহাসচিব এবং আহমদ আল কবির জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

সিলেট-৬: বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নৌকা, তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান সমসের মুবিন চৌধুরীর সোনালী আঁশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনের ঈগল প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

এখানে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

হবিগঞ্জ-৪: চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

এই আসনে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

মৌলভীবাজার-২: কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নৌকার মাঝি হয়েছেন। এখানে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন তৃণমূল বিএনপির হয়ে লড়ছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম সফি আহমদ সলমান ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ আসনে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

সুনামগঞ্জ-১: তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা নিয়ে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকার। তার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের (কেটলি) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

এ আসনে আরও ছয়জন প্রার্থী হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-২: দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র জয়া সেনগুপ্তার (কাঁচি) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ভাই। অপরদিকে, জয়া সেনগুপ্তা এই আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

এ আসনে আরও দুজন প্রার্থী আছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: শিবচর আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এবং আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলামের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

রাজশাহী-১: গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোকাবিলা করছেন তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী। স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত।

এর মধ্যে চিত্রনায়িকা শারমিন আক্তার নিপা মাহিয়া ট্রাক প্রতীকে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছেন। এখানে আরও আট প্রার্থী রয়েছেন। 

রাজশাহী-২: সদর আসনে ১৪ দলের প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশার নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশার পাশে অবস্থান নিয়েছে। শফিকুর রহমান বাদশা নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

রাজশাহী-৪: বাগমারা আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য এনামুল হক মনোনয়ন না পেয়ে হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ক্ষমতাসীন দল সেখানে প্রতীক দিয়েছে দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদকে। দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে গত তিন সপ্তাহে বহুবার সংঘাত হয়েছে। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন। 

রাজশাহী-৫: দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা আসনে নৌকার আবদুল ওয়াদুদ দারা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমানকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। দুই প্রার্থীর পক্ষেই সমর্থনও দৃশ্যমান। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

রাজশাহী-৬: চারঘাট ও বাঘা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোকাবিলা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. রাহেনুল হক রায়হান। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই রায়হানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ভোটের মাঠ কঠিন হয়ে গেছে শাহরিয়ারের জন্য। এখানে আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন।

বগুড়া-২: শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের ছাড় পেয়েও স্বস্তিতে নেই জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। বিএনপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিউটি বেগমের পাশে আছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ অবস্থান নিয়েছেন। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী হয়েছেন।

বগুড়া-৩: আদমদিঘী ও দুপচাচিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনেও আওয়ামী লীগের ছাড় পেয়েও জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার বেকায়দায় আছেন।

সেখানে আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তাদের মধ্যে অজয় কুমার সরকার ও সাইফুল্লাহ আল মেহেদীর ভোটের প্রচার জমিয়ে তুলেছেন। এখানে আরও প্রার্থী হিসেবে আছেন নয়জন।

বগুড়া-৪: কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি আওয়ামী লীগ ছেড়েছে ১৪ দলের শরিক জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনকে। তবে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মোল্লা প্রার্থী হয়ে ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছেন। নৌকার বদলে মোল্লার পক্ষে আছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

জয়পুরহাট-১: সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে নৌকার প্রার্থী সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদুকে মোকাবিলা করছেন কাঁচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল আজিজ মোল্লা। তার পাশে আছে আওয়ামী লীগের বড় অংশ।

নওগাঁ-১: পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামত উপজেলা আসনে আওয়ামী লীগের সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খালেকুজ্জামান তোতা। তিনি দলের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। এখানে আরও দুজন প্রার্থী আছেন।

নওগাঁ-৪: মান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকা পাওয়া নাহিদ মোর্শেদকে ছাড় দিচ্ছেন না সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক। মনোনয়ন না পেয়েও ভোটের মাঠ ছাড়তে রাজি হননি তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম ব্রুহানী সুলতান মামুদ গামার পক্ষেও আছেন বহু নেতাকর্মী। এখানে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

নওগাঁ-৫: সদরের এ আসনে নৌকার নিজাম উদ্দিন জলিল জনের বিপক্ষে আছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ। তিনি গত তিন সপ্তাহে প্রচার জমিয়ে তুলতে পেরেছেন। আরও দুজন প্রার্থী এখানে লড়াইয়ে আছেন।

নওগাঁ-৬: আত্রাই ও রানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলালকে মোকাবিলা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক সুমন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে এই দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে গেছেন। এখানে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

পাবনা-১: সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে গঠিত এ আসনে ভোট জমে উঠেছে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকু ও আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাওয়া সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবু সাইয়িদের মধ্যে। এলাকায় দুই জনের অবস্থানই শক্তিশালী। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

নাটোর-১: লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার শহিদুল ইসলাম বকুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কালাম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। এই আসনে আরো তিন জন প্রার্থী আছেন।

নাটোর-২: সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার মো. শফিকুল ইসলাম শিমুলকে হারিয়ে দিতে চাইছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। এই আসনে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

নাটোর-৩: সিংড়া উপজেলার এ আসনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইয়েদ আহমেদ পলকর নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রচার জমিয়েছেন সিংড়া উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। এই আসনে আরও সাতজন প্রার্থী আছেন।

নাটোর-৪: গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রচার জমিয়েছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আসিফ আবদুল্লাহ বিন কুদ্দুস। এই আসনটিতেও আরও সাতজন প্রার্থী আছেন।

সিরাজগঞ্জ-৫: বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার আব্দুল মমিন মন্ডলের নৌকার বিরুদ্ধে আছেন আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। দুই জনের পক্ষেই আছেন নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ। আসনটিতে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

ময়মনসিংহ-১: হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা নিয়ে এ আসনটি। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জুয়েল আরেংয়ের (নৌকা) সঙ্গে স্বতন্ত্র মাহমুদুল হক সায়েমের (ট্রাক) তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সায়েম হালুয়াঘাটের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। এই আসনে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

ময়মনসিংহ-৫: মুক্তাগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে জাতীয় পার্টির সালাহ উদ্দিন আহমেদে মুক্তির সঙ্গে (লাঙ্গল) স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা বদর আহমেদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলামও (ট্রাক) ভাল ভোট টানবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

ময়মনসিংহ-৭: ত্রিশাল উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত রুহুল আমিন মাদানীর (নৌকা) সঙ্গে স্বতন্ত্রের আনিছুজ্জামানের (ট্রাক) তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ আসনে আরও দুই প্রার্থী আছেন।

ময়মনসিংহ-৮: ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার সঙ্গে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হাসান সুমনের লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। সুমন উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে ভোটে লড়ছেন। এখানে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

ময়মনসিংহ-১১: ভালুকা উপজেলা নিয়ে এ আসন। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাজিমুদ্দীন আহমেদ (নৌকা) ও স্বতন্ত্রের  মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদের (ট্রাক) মধ্যে লাড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

জামালপুর-৪: সরিষাবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের মাহবুবুর রহমান হেলাল (নৌকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মুরাদ হাসানের (ঈগল) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

ডা. মুরাদ হাসান এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী। অপরদিকে, মাহববুর রহমান হেলাল আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

জামালপুর-৫: সদর উপজেলা আসনে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ (নৌকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রেজনুর মধ্যে লড়াই হবে। রেজনু ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

নেত্রকোণা-৩: কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অসীম কুমার উকিল (নৌকা) এবং স্বতন্ত্রের ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুর (ট্রাক) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। অসীম বর্তমান এবং ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু সাবেক সংসদ সদস্য। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

খুলনা-৪: রুপসা, তেরখাদা ও দিঘুলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্তজা রশিদী দারার (কেটলি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

দারা সাবেক হুইপ প্রয়াত এস এম মোস্তাফা রশিদী সুজার ভাই এবং খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। এখানে আরও নয়জন প্রার্থী আছেন।

খুলনা- ৫: ফুলতলা ও ডমুরিয়া আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের শেখ আকরাম হোসেন।

তিনি ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান। এখানে আরও দুজন প্রার্থী হয়েছেন।

খুলনা-৬: কয়রা ও পাইকগাছা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী পাইকগাছা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মোড়ল রশীদুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমানের।

এই আসনে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

চুয়াডাঙ্গা-১: সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।

তার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম এ রাজ্জাক খান রাজ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালার মধ্যে ত্রিমুখি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও তিনজন প্রাথী ছেন।

চুয়াডাঙ্গা-২: জীবননগর, দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের সঙ্গে টক্কর দেবেন মির্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লন্টু (ঢেঁকি) ও আবু হাশেম রেজা (ট্রাক)। এ ছাড়া এখানে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

ঝিনাইদহ-১: শৈলকুপা উপজেলার এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম দুলাল। ভোটাররা নৌকা ও ট্রাক প্রতীকোর পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আব্দুল হাই চারবারের সংসদ সদস্য।

এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

ঝিনাইদহ-২: হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলার এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমির। তার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহারিয়ার জাহেদী মহুলের হাড্ডিহাড্ডি লড়াই হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এখানে আরও নয়জন প্রার্থী আছেন।

মেহেরপুর-১: সদর ও মুজিবনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে নৌকার প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। তার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দলের দুইবারের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নানের। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

মেহেরপুর-২: গাংনী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু সালেহ মো. নাজমুল হক সাগর। তার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেনের।

নৌকার প্রার্থী মেগেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং ট্রাক প্রতীতের মকবুল দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। এখানে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

সাতক্ষীরা-১: কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নৌকার মাঝি ফিরোজ আহমেদ স্বপনের সঙ্গে মূল লড়াই হবে জাতীয় পার্টির সৈয়দ দিদার বখতের।

কলারোয়া ও তালা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আরও আটজন প্রার্থী আছেন।

সাতক্ষীরা-৪: উপকূলীয় এই আসনে সাবেক জাাপা নেতা ও সাবেক হুইপ গোলাম রেজা এবার প্রার্থী হয়েছেন বিএনএম থেকে। তিনি এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতাউল হক দুজনই শক্ত প্রার্থী। তাদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

এই আসনে আরও পাঁচজন প্রার্থী আছেন।

রংপুর-১: গংগাচড়া ও সিটি করপোরেশনের আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গাঁর (কেটলি) সঙ্গে গংগাচড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলুর (ট্রাক) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফও (লাঙ্গল) আছেন আলোচনায়। এখানে আরও পাঁচ প্রার্থী রয়েছেন।

রংপুর-২: বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের অভাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কামাল মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিশ্বনাথ সরকার (ট্রাক প্রতীক) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডল (লাঙ্গল) লড়ছেন।

রংপুর-৫: মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী রাশেক রহমানের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকারের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা এই দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে গেছেন।

নৌকার প্রার্থী রাশেক রহমান বর্তমান সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমানের ছেলে এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এখানে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন।

কুড়িগ্রাম-৩: উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. আক্কাছ আলী সরকারের (ট্রাক) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুস সোবহানও (লাঙ্গল) ভোটের লড়াইয়ে আছেন। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

কুড়িগ্রাম-৪: রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেরা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী বিপ্লব হাসান পলাশের সঙ্গে জাতীয় পার্টির এ কে এম সাইফুর রহমানের (লাঙ্গল) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও নয়জন প্রার্থী আছেন।

দিনাজপুর-১: বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপালের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাকারিয়ার (ট্রাক) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও তিন প্রার্থী রয়েছেন।

দিনাজপুর-৪: চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম তারিকের (ট্রাক) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও দুজন প্রার্থী আছেন।

দিনাজপুর-৬: ঘোড়াঘাট, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও হাকিমপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের (নৌকা) সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক চৌধুরীর (ট্রাক) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

গাইবান্ধা-১: সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারীর (লাঙ্গল) সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের (ঢেঁকি) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে লাঙ্গল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। এখানে আরও আটজন প্রার্থী আছেন।

গাইবান্ধা-২: সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি কৌশলগত কারণে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে লাঙ্গলের প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকারের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও তিনজন প্রার্থী আছেন।

গাইবান্ধা-৩: সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহারিয়া খাঁন বিপ্লবের (ট্রাক) লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও সাতজন প্রার্থী আছেন।

গাইবান্ধা-৫: সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকার প্রার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারজানা রাব্বী বুবলী (ট্রাক) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আরও তিন প্রার্থী রয়েছেন।

নীলফামারী-৩: জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেলের (লাঙ্গল) সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন পাভেল (কাঁচি) এবং মার্জিয়া সুলতানার (ঈগল) ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। স্বতন্ত্র এ দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এখানে আরও চারজন প্রার্থী আছেন।

নীলফামারী-৪: কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের (কাঁচি) হাড্ডাহাড্ডি লাড়াইয়ের আভাস মিলেছে।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখছেদুর মোমিন (ট্রাক)। অন্য আরও চারজন প্রার্থী আছেন এখানে।