বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

ভেদরগঞ্জ উপজেলা আ. লীগ কার্যালয় ভাঙচুর, তিন ছাত্রলীগ নেতা আহত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ হামলা চালিয়ে উপজেলা কার্যালয় ভাঙচুর ও তিন ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে। গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের নেতাদের।

আহতরা হলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদরের সরকারি এম এ রেজা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক (২৯), সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা সুমন মুন্সী (২৭) ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোরসালিন হাওলাদার (২১)। তাদেরকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।ভে

ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে , উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবরের সাথে সরকারি এমএ রেজা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে বিরোধ রয়েছে। গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক, সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা সুমন মুন্সি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোরসালিন হাওলাদার ভেদেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রান্তর নেতৃত্বে ১৫ হতে ২০ জন ওই কার্যালয়ে হামলা চালান। তখন তারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এবং ওই তিন ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে রাতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সরকারি এম এ রেজা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক বলেন, ‘গতকাল রবিবার নির্বাচনের ফলাফল জানার পর আমরা কয়েকজন আওয়ামী লীগের অফিসে বসে ছিলাম। রাত ৯টার দিকে প্রান্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন। আমাদের তিন জনকে পিটিয়ে আহত করেন। ও নেত্রীর ছবি, আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। কি কারণে প্রান্ত এই হামলা করলেন আমরা জানি না।

আমি আমার ভাইয়ের মাধ্যমে একটি মামলার এজাহার থানায় পাঠিয়েছি। প্রান্তসহ যারা এ ঘটনায় জড়িত ছিল এমন ১৬ জনের নাম উল্লেখ করেছি এজাহারে।’

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন হিরু বলেন, ‘গতকাল নির্বাচনের রেজাল্ট শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আমাদের ছাত্রলীগের নেতাদের ওপর বহিরাগত বখাটে যারা রামদা, সেনদা হকি নিয়ে হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনার ব্যানার, আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় নাহিম রাজ্জাকের ব্যানারসহ অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।’

হামলার বিষয়টি জানার জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘এত বছর থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কেউ কোনোদিন হামলা চালানোর সাহস দেখায়নি। যারা এ দুঃসাহস দেখিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মিন্টু  মণ্ডল বলেন,  ‘ছাত্রলীগের দুই পক্ষের বিরোধে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এবং আওয়ামী লীগ অফিসের কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এমন একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করছি।’