শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১২ শাবান, ১৪৪৫

কক্সবাজার-৩ আসন ভোটারশূন্য কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং দেখে বিস্মিত সবাই

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের বেশির ভাগ কেন্দ্র ভোট গ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে। বিশেষ করে রামু উপজেলার এগারো ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সিংহভাগ ভোটকেন্দ্র প্রায় ফাঁকা। কিন্তু বিকাল ৪টার পর কাস্টিং ভোট দেখে সবার চোখ কপালে ওঠার মতো। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তৃতীয় বারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল) ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ। তবে অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন। এ আসনে ১৭৬টি কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ২৯ এবং ঈগল পেয়েছে ২১ হাজার ৯৪৬ ভোট। তিন উপজেলায় ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬১০ জন।

এদিকে কেন্দ্রভিত্তিক কাস্টিং ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সবার চোখ কপালে ওঠার মতো। স্ব-স্ব কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ ভোট কাস্টিং দেখে রীতিমতো বিস্মিত স্থানীয়রা। এমনকি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নৌকার এজেন্টদের কয়েকজনও নিজেদের কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছে, এত ভোট কীভাবে কাস্টিং হয়েছে সেটা তাদের ধারণার বাইরে। নাম প্রকাশ না করা এই এজেন্টদের দাবি যা হয়েছে সবার চোখের সামনে হয়েছে এ নিয়ে কথা বলে তারা বিপদে পড়তে চাচ্ছে না।

ভোটের দিন রোববার সকাল এবং দুপুর ২টায় রামুর রাজারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের উপস্থিতি শূন্য। বুথের ভেতরে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। তখন শুধু ৪ শতাধিক ভোট কাস্টিংয়ের তথ্য দেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু ৪টার পর ভোটের ফলাফলে ওই কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং দেখা যায় ২৮৫৬। এ কেন্দ্রে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩৩১৩। অল্প সময়ের ব্যবধানে এ পরিমাণ ভোট কাস্টিং যেন ভূতুড়ে ব্যাপার। রামুর প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে একই রকম ঘটনার অবতরণ হয়েছে।

ভোটের দিন ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে আলোচনায় আসা কেন্দ্রে একটি রামু খিজারী সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রটি। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬৩৩। এদিন দুপুরে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় দুতিন জন পুরুষ ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। বুথের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় একজন ভোটার ভোট দিচ্ছেন। বেলা ২টা নাগাদ ওই কেন্দ্রের প্রতিটি বুথের তথ্য অনুযায়ী মোট ৫৮৫টি ভোট কাস্ট হয়। কিন্তু চারটার পর ওই কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং দেখা যায় ২০৮৯ ভোট।

পূূর্ব মেরংলোয়া ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রেটিতে ও সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়েনি। দেড়টার দিকে ওই কেন্দ্রে ভোট কাস্ট হয় ৪০২টি। সেখানে ভোট কাস্টিং দেখানো হয়েছে ২১১৩ ভোট। অথচ সকাল থেকে ভোট শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত কেন্দ্রে প্রায় ভোটারশূন্য দেখা গেছে।

এছাড়াও রামুর জোয়ারিয়ানালা, রশিদ নগর ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, চামকারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কোন কোন কেন্দ্রে সামান্য ভোটারের দেখা মিললেও অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি হতাশ করেছে। একই অবস্থা দেখা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার প্রায় সব কেন্দ্রে।

এদিকে আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাইকোর্টের আওয়ামী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ ভোট বর্জন করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।

কক্সবাজারের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান বলেন, ঈগল প্রতীকের পক্ষে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে, যা খতিয়ে দেখা হবে।