শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১২ শাবান, ১৪৪৫

দু’পক্ষের পালটাপালটি অভিযোগ শরীয়তপুর সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস অচল সরকারের রাজস্ব ক্ষতি

শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তিন দিন ধরে দলিল লেখা বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চলছে পালটাপালটি অভিযোগ। দলিল লেখকরা বলছেন সাব-রেজিস্ট্রারের অবৈধ ঘুস লেনদেন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে তিন দিন ধরে আমরা দলিল লেখা বন্ধ রেখেছি। সাব রেজিস্ট্রার অফিস বলছে দলিল লেখকদের অনৈতিক আবদার না রাখায় দলিল লেখকরা সাব-রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। দলিল করতে আশা গ্রাহকরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। আর এতে করে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

জানা যায়, শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার দক্ষিণ মধ্যপাড় গ্রামের নুরুল আলম ওরফে নুরে আলম নামের একজন গ্রাহক গত বুধবার দলিল করতে আসেন। দলিল লেখকরা কাগজপত্রসহ দলিল লিখে সাব- রেজিস্ট্রারের কাছে রেজিস্ট্রি করার জন্য জমা দেয়। তখন সাব-রেজিস্ট্রার কাগজপত্র দেখে তার রেকর্ডীয় পর্চায় নাম নুরুল আলম আর নামজারি পর্চায় বা মিউটেশনের পর্চায় নুরে আলম। এ অসঙ্গতি দেখে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ওই দুই নামের ব্যক্তি যে একই জন এ মর্মে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে একটি প্রত্যায়নপত্র চান। এ সময় উপস্থিত দলিল লেখকরা এসলাসের সামনে হৈচৈ করেন। পরে সাব-রেজিস্ট্রার তাদের সে দলিলটি করে দিলেও দলিল লেখকরা তিন দিন ধরে লেখকরা দলিল লেখার কাজ বন্ধ রেখেছেন। দলিল লেখকরা শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রারের অবৈধ ঘুস লেনদেন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে তিন দিন ধরে দলিল লেখা বন্ধ রেখেছে।

শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুরুল হক মুন্সি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের অবৈধ ঘুস লেনদেন

দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে তিন দিন ধরে আমরা দলিল লেখা বন্ধ রেখেছি। এর বেশি কিছু আমরা বলতে পারব না।

ঘুস লেনদেনের কথা অস্বীকার করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, শরীয়তপুর সদর পৌরসভা এলাকার নুরুল আলম ওরফে নুরে আলম নামে একজন দলিল করতে আসেন তার নামে অসঙ্গতি বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার প্রত্যায়নপত্রের কথা বললে দলিল লেখকরা উত্তেজিত হয়ে যায়।

প্রত্যায়নপত্র আনলে তিনি দলিলটি করে দেন। তারপরও তিন দিন ধরে শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৭৬ জন দলিল লেখকরা তাদের দলিল লেখার কাজ বন্ধ রেখেছেন। শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার তার মোবাইল নাম্বারে কল করে পাওয়া যায়নি।