বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজিতে চালকরা অসহায়

শরীয়তপুরে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে মোটরসাইকেলচালকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি নসিমন করিমনের কাছ থেকেও তারা মাসোহারা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক আইনের কোনো বালাই নেই। যত্রতত্র থামছে আর চলছে যানবাহন। ২/১টি স্থানে কনস্টেবলদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও সার্জনরা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পৃথক পৃথক টিমে চাঁদা আদায়ের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রাফিক সার্জেন্টদের পাশাপাশি পুলিশের একাধিক টিম জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে কাগজ দেখার নাম করে চালকদের হয়রানি করছে নিয়মিত। এসব অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, শরীয়তপুর, চাঁদপুর মহাসড়কের মনোহর বাজার মোড় থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত অন্তত ১০/১২টি পয়েন্টে, জেলা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও পুলিশ সদস্যরা এ চাঁদা আদায় করে। কাঙ্ক্ষিত টাকা না পেলে কাগজপত্র দেখার নামে বিভিন্নভাবে হয়রানি আর মোটা অঙ্কের টাকার মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি দেখান তারা।

সম্প্রতি জেলা সদরের মনোহর বাজার মোড়ে পুলিশ সার্জন ফজলুল করিমের অবৈধ টাকা দাবির চাহিদা মেটাতে না পেরে ৮ হাজার টাকার মামলা খেয়ে রাস্তায় সংজ্ঞা হারিয়ে পড়েন গোসাইরহাটের বাইকচালক নেছার উদ্দিন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন নেছারকে উদ্ধার করে তার বাড়ি পৌঁছে দেন। শখিপুর থানার চরভাগা এলাকার ফিরোজ ভূঁইয়া ও রাজু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তাদের মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও ৮ হাজার টাকা করে মামলা দেন পুলিশ সার্জন মনুজিৎ নন্দী। তাদের অপরাধ একটাই সার্জন মনুজিতের চাহিদা মোতাবেক অবৈধ টাকা দিতে রাজি হননি তারা। শরীয়তপুর সদর উপজেলার আমতলী এলাকার জামাল মুন্সির ছেলে নসিমনচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সকালে চাঁদা দিলে আমরা বিকাল পর্যন্ত চলতে পারি আর বিকালে চাঁদা দিলে রাত পর্যন্ত চলতে পারি। নগদ চাঁদা না দিলে মামলা দিয়ে দেয়।

শরীয়তপুরের ট্রাফিক সার্জন এনামুল হক বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে রাস্তায় চলাচলকারী সব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়, মিথ্যা ও বানোয়াট। এর কোনো সত্যতা যদি পান তাহলে আমার নিকট নিয়ে আসবেন, আমি ব্যবস্থা নেব।