শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ, ১৪৩১, ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে ধুতরাপাতা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া তিনজন এখন শঙ্কামুক্ত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে ভাতের সঙ্গে ধুতরাপাতা সেদ্ধ খেয়ে একই পরিবারের অসুস্থ হয়ে পড়া তিনজনের চেতনা ফিরেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তিনজনের চেতনা ফেরার পর তাঁরা স্বজনদের সঙ্গে বলেছেন।

চেতনা ফেরা ওই তিনজন হলেন—ভেদরগঞ্জের সখিপুর থানার চর কুমারিয়া এলাকার বেলাতুন্নেসা (৬০), তাঁর ছেলে লিটন খান (৪০) ও লিটনের স্ত্রী লাকি আক্তার (৩৫)।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শারমিন আক্তার শরীয়তপুর চোখকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যার দিকে অচেতন অবস্থায় তিন রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁরা ধুতরাপাতা খেয়েছেন, এমন জানার পর সতর্কতার সঙ্গে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রাতে তাঁদের চেতনা ফিরে আসে। এখন তাঁরা শঙ্কামুক্ত। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী চিকিৎসা দেবেন।

গতকাল দুপুরে ওই তিনজনসহ পরিবারের ছয়জন সদস্য ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ ধুতরাপাতা খান। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যায় তিনজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজ সোমবার সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে গিয়ে ওই তিনজনকে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। সেখানে আলাপকালে লিটন খান বলেন, তাঁরা বেশ কিছু দিন ধরে অ্যালার্জিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসায় তা কমছিল না। কোনো গাছের লতা–পাতায় অ্যালার্জি কমে কি না, তা পাশের গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে জানতে চান। তখন সেই ব্যক্তি ধুতরাপাতা সেদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী, ধুতরাপাতা সেদ্ধ খেতে গিয়ে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এটি খেলে মানুষের শরীরে এমন বিষক্রিয়া হবে, তা আগে জানা থাকলে এমন কাজ করতেন না।

লিটনের ভাই আবদুর রশিদ খান বলেন, তাঁরা গ্রামের নিরক্ষর মানুষ। তেমন কোনো সচেতনতা তাঁদের নেই। না বুঝেই তাঁর ভাই এক ব্যক্তির পরামর্শে ধুতরাপাতা খেয়ে এমন বিপদে পড়েন। শেষপর্যন্ত আল্লাহর রহমত ও চিকিৎসকদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে বড় বিপদ থেকে সবাই রক্ষা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এমরান সরদার শরীয়তপুর চোখকে বলেন, ধুতরাগাছের ফুল, কাণ্ড, পাতা—সবই বিষাক্ত। ধুতরার বিষ মানবদেহে গেলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। শরীরে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাতে মানুষের মৃত্যুঝুঁকি থাকে। তাঁরা কেন এই বিষাক্ত পাতা খেয়েছিলেন, তা জানা জরুরি। দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় হয়তো তাঁদের জীবন রক্ষা পেয়েছে। তবে তাঁদের মানবদেহে কোনো ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।