শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ, ১৪৩১, ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫

জাজিরার মিরাশার চাষী বাজারে দিনে ৩ কোটি টাকার পেঁয়াজ বিক্রি

প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজার। এখানে অন্যান্য নিত্যপণ্যের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ কেনাবেচা হয়। পেঁয়াজের মৌসুমে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বেশি হয়। ন্যায্যমূল্যে কেনাবেচা হয় বলে এই বাজার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন এই বাজারে দুই থেকে তিন কোটি টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হয়। ওই বাজারটি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়। এর নাম মিরাশার চাষী বাজার।

জাজিরা উপজেলা কৃষি বিভাগ ও মিরাশার চাষী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পাশে জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের মিরাশার চাষী বাজার। ২০০৮ সালে কৃষি বিভাগ ও সমবায় কার্যালয় যৌথভাবে একটি কৃষি সমবায় সমিতির মাধ্যমে ওই বাজারটি গড়ে তুলেছেন। জাজিরা, নড়িয়া ও শিবচর উপজেলার বিভিন্ন কৃষিপণ্য ওই বাজারে বিক্রি হয়। এখানে ৩৫০টি দোকান থাকে। মৌসুমে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টন পেঁয়াজ সরবরাহ হয় ওই বাজারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হয় কেনাবেচা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যাতায়াত সহজ হওয়ায় ঢাকাসহ আশপাশের বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বাজারটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই বাজারে পেঁয়াজ আসতে শুরু করে। এবার ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মিরাশার চাষী বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে আসেন কৃষক। প্রথম দিকে প্রতি কেজি পেঁয়াজের বাজার দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে থাকে এবং দামও কমতে থাকে। শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও পাশের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কৃষকেরা ওই বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসেন।

গত বৃহস্পতিবার মিরাশার চাষী বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকেরা। ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে মিরাশার চাষী বাজারে বিক্রি হবে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার পেঁয়াজ।

ভোর থেকেই দূরদূরান্তের কৃষক পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে কৃষকের উপস্থিতি। বাজারে আসা পেঁয়াজ সাজিয়ে রাখা হয় সারি সারি করে। ধীরে ধীরে জমে ওঠে পেঁয়াজের বেচাকেনা। শুরু হয় কৃষক আর পাইকারের মধ্যে দর-কষাকষি।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলাটি পদ্মা, মেঘনা ও কীর্তিনাশা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত। নদীর অববাহিকা হওয়ায় দোআঁশ মাটিতে কৃষক পেঁয়াজের আবাদ করেন। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষকেরা জানান, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবর মাসে জমিতে পেঁয়াজ আবাদ শুরু করেন কৃষকেরা। যাঁরা আগে আবাদ করেন, তাঁরা তা আগেই উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে বাজারে নতুন পেঁয়াজের পাইকারি দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা।