সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩১, ৮ মহর্‌রম, ১৪৪৬

ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ছড়ানোর পর সেই ভূমি কর্মকর্তাকে এবার নোটিশ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। নিজ কার্যালয়ে বসে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে বড়কান্দি থেকে ডামুড্যার শিধলকুড়া ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে। এরপর গতকাল বুধবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮–এর ৩ (ঘ)–এর (ই) অনুযায়ী কেন ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে না, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অফিসকক্ষে বসে দুই সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার দৃশ্যের দুটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার মতিউর রহমানকে অন্য একটি উপজেলায় বদলি করে উপজেলা প্রশাসন।

ঘুষ নেওয়ার দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার মতিউর রহমানকে ডামুড্যার শিধলকুড়া ইউনিয়নে বদলি করা হয়। তিনি গতকাল সেখানে যোগদান করেছেন। এরপর এ ঘটনায় গতকালই তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা প্রশাসন।

ওই কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে, আপনার (মতিউর রহমান) বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জমির পর্চার জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, নামজারি ফি ১ হাজার ১৭৫ টাকার স্থলে হয়রানির মাধ্যেমে ১০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা এবং ১০ টাকা ভূমি উন্নয়ন করের জন্য ২ হাজার থেকে ১০ হাজার গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বর্তমানে ভূমি অফিসগুলোতে ক্যাশলেস লেনদেন চালু থাকলেও একটি আলোকচিত্রে (ভিডিওতে) দেখা যায়, আপনি নগদ অর্থ নিচ্ছেন।

ওই নোটিশে আরও বলা হয়, জাজিরার তমিজদ্দিন মালকান্দি গ্রামের জনৈক কামাল হোসেন লিখিত অভিযোগ করেছেন, জমির নামজারির জন্য আপনি (মতিউর রহমান) ২২ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং তাঁর কাছে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। অধিকন্তু আপনার বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি, প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অব্যাহত কুখ্যাতি রয়েছে, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮–এর ধারা ৩ (ঘ)–এর (ই) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অবস্থায় এই বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে না, তার কারণ আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে বড়কান্দি ইউনিয়নের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সেবাপ্রার্থীকে হয়রানি করি না। বড়কান্দিতে তিন বছরের অধিক সময় কাজ করেছি, তাই বদলি করা হয়েছে। আর যে বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে, তার জবাব দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছে। তা তদন্ত  করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালাপরিপন্থী। তাঁকে এই বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাজিরা উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও দুজন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন। ওই কার্যালয়ে ভূমির বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে  টাকা (ঘুষ) নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা দেওয়া হয় না, এমন অভিযোগ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। মতিউর রহমান ওই কার্যালয়ে তিন বছর কর্মরত ছিলেন।