শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ, ১৪৩১, ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫

নড়িয়ায় টাকা নিয়ে খাসজমি দিচ্ছেন এসি ল্যান্ড!

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় সরকারি গাছ কাটা, কর্মচারীদের মারধর ও খাস খতিয়ানের জমি বন্দোবস্ত দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) মো. পারভেজের বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের (পিআইও) কার্যসহকারী পরিতোষ চন্দ মন্ডল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নড়িয়া উপজেলায় ৩৪টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে তিন লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা করে ঘর নির্মাণের কথা রয়েছে। এ কাজের সার্বিক তদারকি করেন পরিতোষ চন্দ মন্ডল। জপসা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরে তিন মাস ধরে প্রকল্পের কাজ চলছে। সম্প্রতি নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) মো. পারভেজ আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে যান। তিনি সেখানে ইটের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি সেখানে কর্মরত শ্রমিক রাফিজকে (২৪) মারধর করেন। পাশে থাকা পরিতোষ চন্দ মন্ডলকেও তিনি মারধর করেন।

তার বিরুদ্ধে নড়িয়ার বিঝারী বাজার, ঘড়িসার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের বিঝারী বাজারে ২৭৬নং দাগে ০.০৩ শতাংশ জমি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নড়িয়া ভূমি অফিসের ভেতরে থাকা তিনটি চাম্বুল গাছও তিনি বিনা টেন্ডারে বিক্রি করেছেন।

আর এসব অনৈতিক কাজে এসি ল্যান্ডকে সহায়তা করেন অফিস সহকারী তোফাজ্জল হোসেন। তার মাধ্যমে মিস কেস, নামজারি, চান্দীভিটা বরাদ্দ ও খাসজমি বন্দোবস্ত করার ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

২০২২ সালের ৪ জুলাই থেকে সহকারী কমিশনার ভূমি মো. পারভেজ নড়িয়া উপজেলার দায়িত্বে আছেন। অন্য দিকে অফিস সহকারী মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভূমি অফিসে কর্মরত।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন সেবা গ্রহীতা বলেন, নড়িয়া এসি ল্যান্ড অফিসে যে বেশি টাকা দিতে পারে, তার কাগজে একাধিক ত্রুটি থাকলেও সে সবরকম সুবিধা পায়। একজনের দলিলের জমি ও অন্যজনকে নামজারি করিয়ে দিতে পারে নড়িয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা। এ ছাড়াও সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা উৎকোচের বিনিময়ে তিনি বন্দোবস্ত দেন।

অফিস সহকারী তোফাজ্জল হোসেন টাকা লেনদেনের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা সব কাজ আইন মেনেই করি। এখানে কোনো রকম অনিয়ম হয়নি।

নড়িয়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সোহরাব বলেন, অফিসের কার্য-সহকারীকে মারধরের বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এর বাইরে আর কিছু বলতে পারব না।

এসি ল্যান্ড মো. পারভেজ বলেন, আমার অফিসে একটি হাফ কাঠ ও আর একটি মরা গাছ ছিল। সেসব বিক্রি করে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। এখানে টাকা কোনো বিষয় ছিল না। একজনকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। যাকে দেওয়া হয়েছে সে ইতিবাচক, আর যাকে দেওয়া হয়নি সে নানা অভিযোগ করতেই পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারের ভিটিগুলো যথাযথ আইন মেনেই দেওয়া হয়েছে।

কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে পিআইও অফিসের কার্য-সহকারী পরিতোষ চন্দ মন্ডল রাতের আঁধারে কিছু ২নং ইট সরবরাহ করেছিল। এ কারণে পরে মোল্লা ব্রিকসের ইট আনার জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে কর্মচারীদের সঙ্গে এসি ল্যান্ডের রাগারাগি হয়েছে। তবে কোনো মারামারি হয়নি।