বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

তীব্র দাবদাহে শরীয়তপুরে গলে যাচ্ছে সড়কের পিচ

শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক।

তীব্র দাবদাহে শরীয়তপুরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পিচ গলে উঠে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় এ পথে কমে গেছে যান চলাচল।

সোমবার শরীয়তপুরে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরিদপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের ১৭ কিলোমিটার অংশের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি স্থানে পিচ গলে গেছে। এতে যানবাহন চালাতে সমস্যায় পড়ছেন চালকরা।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলা সদরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার নরসিংহপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার এ পথ দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন মেঘনা নদী পাড় হয়ে চট্টগ্রামে চলাচল করে। বর্তমানে দুই লেনের সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

সড়কটি সচল রাখতে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভেদরগঞ্জের বালিবাড়ির মোড় থেকে নরসিংহপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার অংশ বিটুমিন দিয়ে কার্পেটিং করে সংস্কার করা হয়। তবে এক সপ্তাহ ধরে এ জেলার তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত হওয়ায় সড়কটি উত্তপ্ত হয়ে পিচ গলে যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটির বালিবাড়ির মোড় ও খায়েরপট্টি মধ্যবর্তী বেশ কয়েকটি স্থানের পিচ গলে গেছে। সড়কে চলা যানবাহনের সময় গলে যাওয়া পিচগুলো চাকার সঙ্গে লেগে যাচ্ছে। এতে খুব সতর্কতার সঙ্গে ওই স্থানগুলো পার হচ্ছেন চালকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, “আমি এ পথ দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে সখিপুরে যাই। কয়েকদিন ধরে দেখছি, কিছু কিছু জায়গার পিচ গলে যাচ্ছে। জায়গাগুলো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় সাবধানে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।”

ট্রাকচালক আবদুর রাজ্জাক শেখ বলেন, “গত সপ্তাহে এ পথ দিয়ে চট্টগ্রাম গেছি। ফেরার পথে দেখলাম ফেরিঘাটের পর বেশকিছু জায়গায় পিচ গলে গিয়ে চাকায় আটকে যাচ্ছে। তাই খুব ধীরে ধীরে ট্রাক চালাতে হয়েছে। এতে আমাদের সময় বেশি লাগছে।”

শরীয়তপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কের বিটুমিন গলে যাচ্ছে। দাবদাহ কমলে সড়কে গলে যাওয়া স্থানগুলো শনাক্ত করে নতুন করে বিটুমিন দেওয়া হবে।”

এদিকে প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির আশায় জেলার ভেদরগঞ্জ এবং জাজিরা উপজেলায় বিশেষ নামাজ আদায় করছে মানুষ। নামাজে শেষে বিশেষ দোয়া করা হয়। বৃষ্টির জন্য কেঁদে কেঁদে দোয়া করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।