বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও সড়কের কাজে স্থবিরতা

শরীয়তপুর-নাওডোবা টু-লেন সড়কের কাজে ভূমি জটিলতার কারণে প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি। পাশাপাশি জাজিরা কলেজ মোড়ে থেকে ঠান্ডার মোড় পর্যন্ত বাইপাস সড়ক না করায় সরকারের প্রায় ২শ কোটি টাকার বেশি গচ্চা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টু-লেনের কিছু অংশের কাজ করলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা কারণে কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে। এতে করে মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ভূমি অধিগ্রহণের পর আমাদের বুঝিয়ে না দেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারছেন না বলে জানান সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী। সড়ক ও জনপথ (সওজ) শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ ভূমি অধিগ্রহণ চলাকালীন শরীয়তপুর-নাওডোবা সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ২৭.০১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৬শ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সড়ক ও ২টি ব্রিজসহ ৩টি প্যাকেজে কাজ দেওয়া হয়। শরীয়তপুর থেকে জাজিরা কলেজ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পান মেসার্স মো. সালে আহম্মেদ, অপরটি জাজিরা কলেজ মোড় থেকে নাওডোবা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স মীর হাবিবুর আলম অ্যান্ড মাহবুব ব্রাদার্স প্রা.লি.। শরীয়তপুর সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদ হোসেন জানান, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ওই সড়কের কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২৪ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা থাকায় কাজের মেয়াদ দ্বিতীয় বারের মতো বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ৩নং প্যাকেজের সাইড ঠিকাদার বকুল আহম্মেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে টাকা-পয়সা দিয়ে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার পর আমরা দ্রুত কাজ করছি। বাইপাস সড়কের ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না। ১নং প্যাকেজের সাইড ঠিকাদার লিখন হোসেন, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে প্রেমতলা, জাজিরা এলাকায় সমস্যা হয়েছে। সওজ যেখানে জায়গা বুঝিয়ে না দিয়েছে, সেখানে কাজ ধরতে পারিনি। সওজকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, জেলা প্রশাসক অফিসে ঝামেলা। নাম না প্রকাশ করা শর্তে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখার একজন বলেন, জমি অধিগ্রহণ করা একই মৌজায় বাইপাস সড়ক হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের চাপে বাইপাস সড়ক বন্ধ করে, জাজিরার টিএনটি মোড় দিয়ে সড়ক করায় সরকারের প্রায় ২শ কোটি টাকা বেশি খরচ হবে। পাশাপাশি জনসাধারণের ভোগান্তি থেকেই যাবে। এ বিষয়ে শরীয়তপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখা জানে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, সীমানা ও জমি জটিলতার কারণে একটু দেরি হয়েছে। তবে বাইপাস সড়ক করলে ভালো হতো। আমাদের কষ্ট কম হতো। টিএনটির মোড় দিয়ে করলে অনেক স্থাপনাসহ বাড়িঘর ভাঙা পড়বে