বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুর পৌর মেয়র প্রতিশ্রুতির সিকিভাগ বাস্তবায়ন

শরীয়তপুর পৌরসভা নানা সমস্যায় জর্জরিত। বরাবরই অবহেলিত এ পৌরসভা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও প্রায় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে পারভেজ রহমান জন শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। পৌরবাসীর অভিযোগ, মেয়র তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। প্রতিশ্রুতির সিকিভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তিনি। পৌরসভার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। এছাড়া রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অপ্রশস্ত ও ভাঙা রাস্তা, ডাস্টবিন ও গণশৌচাগার সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ পৌরসভা। অডিটরিয়াম নেই। নেই কোনো পার্ক। চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থাও নেই এ পৌরসভায়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও এ পৌরসভায় মেয়ররা তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। এতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত এ পৌরসভার মানুষ। বর্তমান মেয়রও এর ব্যতিক্রম নন। তার সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারি।মে

মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, একথা সত্য শরীয়তপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও নাগরিক সুবিধা পায় না জনসাধারণ। তাই আমি নির্বাচনের সময় বলেছিলাম নির্বাচিত হলে এ পৌরসভার নাগরিকদের উন্নত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নাম পাওয়ায় আমি প্রতিশ্রুতির আংশিক বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এলাকার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শরীয়তপুর পৌর মেয়রের সাক্ষাৎকার-

শরীয়তপুর চোখ : এলাকার উন্নয়নে কি কি কাজ করেছেন?

মেয়র : প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার ছিল রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন। এ সব প্রতিশ্রুতির আংশিক বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। রাস্তাঘাটের ক্ষেত্রে ৭৫ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। প্রায় ৩০ কোটি টাকার কাজ ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। বাকিটা চলমান আছে। আরও ৩০/৩২টি আরসিসি নতুন রাস্তা হচ্ছে। একদিকে রাস্তা নির্মাণ করলে আরেকদিকে ভেঙে যায়। পৌরসভাবাসী রাস্তা, উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা চায়, কিন্তু তারা এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়তে চান না। শরীয়তপুর পৌরসভার অধিকাংশ এলাকাই সন্ধ্যার পর অন্ধকার থাকে। আলোকসজ্জা না করতে পারার কথা স্বীকার করে বলেন, অর্থ সংকটের কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শরীয়তপুর চোখ : বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে কার্যকরী পদক্ষেপ নেই কেন?

মেয়র : সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানের জন্য ৪৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ চলমান আছে। এ প্রকল্পটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। খুব শিগগিরই টেন্ডার হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট লাঘব হবে।

শরীয়তপুর চোখ : জলাবদ্ধতা নিরসনে আপনার কোনো ভূমিকা নেই, কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

মেয়র : পৌরসভার প্রধান সমস্য জলাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে পারছি না। আমাদেরকে নির্ভর করতে হয় বিভিন্ন প্রজেক্টের ওপর। আমাদের একটি বড় প্রজেক্ট রয়েছে (আর ইউ টিটিপি)। ওই প্রজেক্টে দুই থেকে আড়াইশ কোটি টাকার কাজ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রজেক্টটি চালু হলে আর কোনো সমস্য থাকবে না।

শরীয়তপুর চোখ: মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে আপনার কোনো পদক্ষেপ নেই কেন?

মেয়র : কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে আমাদের পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করার। এজন্য সভা সেমিনার করে যাচ্ছি।

শরীয়তপুর চোখ : সড়ক বেহাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক, সমস্যা সমাধানে আপনার ভূমিকা কি?

মেয়র : বেহাল সড়কগুলো সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন নতুন সড়ক পাকাকরণ করা হচ্ছে। জনগণ ঠিকমতো ট্যাক্স দিলে তা দিয়ে আমরা উন্নয়ন কাজ করতে পারব।

শরীয়তপুর চোখ : ময়লা, আবর্জনায় ভরপুর, যেখানে-সেখানে ডাস্টবিন; প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই কেন?

মেয়র : পৌরসভায় ময়লা-অবর্জনা ফেলার কোনো জায়গা ছিল না। এ কারণে এতোদিন এটি করা সম্ভব হয়নি। এখন জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। অচিরেই ডাস্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

শরীয়তপুর চোখ : এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

মেয়র : আমাদের পৌরসভার ভালো অডিটরিয়াম নেই। নাগরিকদের জন্য কোনো পার্ক নেই। ভালো কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। পৌরসুপার মার্কেট নির্মাণ জরুরি। পুরো পৌরসভা আলোকিত করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।