বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

গোসাইরহাট হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স সংকট

 চিকিৎসক ও নার্সের সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার পরিধি এখনো বাড়ানো হয়নি। যার কারণে এ এলাকার জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার লোকের চিকিৎসার জন্য এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না মানুষ। এ উপজেলার রোগীদের বাধ্য হয়ে শরীয়তপুর ও ঢাকার দিকে ছুটতে হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের মেঝেতে চাদর বিছিয়ে নিচ্ছেন চিকিৎসা। সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ে দরিদ্র রোগীরা। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার ৩১ শয্যার ১৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৫ জন। শূন্য পদ রয়েছে ৭টি। এর মধ্যে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি, চক্ষু ও অ্যানেসথেসিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসকের পদ শূন্য। এছাড়া নার্সের পদ শূন্য রয়েছে ৮টি। হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৩১টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। শুধু তাই নয়, শূন্য রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ৫৯টি পদের ২৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২১ পদের মধ্যে ১০টি পদ খালি। রয়েছে টেকনিশিয়ানের সংকটও। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আউটডোরে দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে এবং ইনডোরে ৩০ থেকে ৩৫ জন ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্মরত চিকিৎসক-নার্সদের। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন আবুল কালাম বলেন, গাছ থেকে পড়ে ছোট ভাইয়ের পা ভেঙে গেছে। হাসপাতালে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার পায়ের এক্স-রে করাতে বললেন। সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে থাকার পরও বেশি খরচ দিয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক থেকে এক্স-রে করাতে হয়েছে। জানা যায়, হাসপাতালে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা চালু করা হয়নি। এতে রোগীদের বাধ্য হয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে ডায়াগনস্টিক বা ক্লিনিক থেকে। হাসপাতালের পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, চিকিৎসক ও নার্সের সংকট চলছে দীর্ঘদিন থেকে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অন্যদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। টেকনিশিয়ান না থাকায় মেশিন-যন্ত্রপাতি চালু করা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।