বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

ছাত্রলীগের ওপরে কোনো সন্ত্রাস নাই’

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রুবেল বেপারী বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের ওপরে কোনো সন্ত্রাস নাই, কোনো শক্তি নাই। ‘ উপজেলার টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় রোববার বিকালে জাজিরা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজীর নির্বাচনি সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওই বক্তব্যের ৪ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রুবেল তার ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেছেন। সোমবার থেকে তার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন।

প্রসঙ্গত, ইদ্রিস ফরাজীর নির্বাচনি প্রতীক মোটরসাইকেল এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এসএম আমিনুল ইসলাম রতনের নির্বাচনি প্রতীক ঘোড়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল বেপারি দুই সন্তানের জনক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে রয়েছেন।  তার নেতৃত্বে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ ও আসবাবপত্রের জন্য আহ্বান করা দরপত্রের বাক্স ভেঙে ফেলা হয়। পরে দরপত্রগুলো ছিনিয়েও নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও তিনি একই বছরের ৩০ মে শরীয়তপুরে আলোচিত পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় ৭২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আসামিদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

রুবেল বেপারীকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘ইদ্রিস ফরাজীর বিরুদ্ধে যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তিনি নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। নৌকা প্রতীকের পক্ষে যারা কাজ করেছেন, তাদেরকে হত্যা করে তিনি মার্ডার মামলার আসামি হয়েছেন। সবাই জানেন, তিনি নানান জায়গায় বক্তৃতায় ইদ্রিস ফরাজীর বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি দেন। আসলে সাধারণ মানুষ ইদ্রিস ফরাজীর পক্ষে রয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও ইদ্রিস ফরাজীর পক্ষে রয়েছি। আপনার এ হুমকি-ধামকি কোনো কাজে আসবে না। আগামী ২১ তারিখের নির্বাচন একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও গঠনমূলক নির্বাচন হবে। সাধারণ মানুষ নিরাপদে শান্তিতে ভোট দেবে। ইদ্রিস ফরাজীকে মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে চেয়ারম্যান বানিয়ে আমরা ঘরে ফিরব, এর আগে আমরা কেউ ঘরে ফিরব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস রাখি, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার ১০ বছর উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বংশে বংশে বিভেদ সৃষ্টি করেন নাই। কারও ভূমি দখল করেন নাই। কারও সঙ্গে মারামারি করতে যান নাই। আপনারা জানেন, রতন সরদারের (প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী) বিরুদ্ধে বড়কান্দি ইউনিয়ন, পালেরচর ইউনিয়ন, কুণ্ডেরচর ইউনিয়নে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সেখানকার সাধারণ মানুষ ভয় পায় কথা বলতে, তারা সাহস পায় না। তাই আমরা উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে যারা রয়েছি, তারা সাহস রেখে বলতে চাই, আমরা কোনো ভূমিদস্যুকে, কোনো সন্ত্রাসীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বানাতে পারি না। কারণ, উপজেলা পরিষদ সাধারণ জনগণ, নেতাকর্মীদের আস্থার জায়গা। আমরা একজন ভদ্র-মার্জিত লোককে চাই। ইদ্রিস ফরাজী তার কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করেছেন, তিনি মানুষের সেবায় ও কল্যাণে নিয়োজিত। তার অর্থনৈতিক লোভ নাই।’

রুবেল বেপারী আরও বলেন, ‘আমরা অনেকেই রাজনীতির নামে ব্যবসা করে নির্বাচনে প্রতিনিধি হয়েও রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করতে চাই। তাই এসব লোক থেকে আগামী নির্বাচনে দূরে থাকতে হবে। কোনো সন্ত্রাসী কোনো কাজে আসবে না, ছাত্রলীগের ওপরে কোনো সন্ত্রাস নাই, কোনো শক্তি নাই। আমরা সাধারণ মানুষের সেবায় বিশ্বাসী। আগামী নির্বাচনে ইদ্রিস ফরাজীকে মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করে আমরা জাজিরাকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।’

এ ব্যাপারে জানতে রুবেল বেপারী ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইদ্রিস ফরাজীর মোবাইল ফোনে রোববার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।

জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেদ উজ্জামান বলেন, ‘আমি ভিডিওর ব্যাপারে কিছু জানি না। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি ছাত্রলীগের মূলনীতি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি প্রগতিশীল সংগঠন। ছাত্রলীগের সম্মানহানি করার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। যদি রুবেল কোনো অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তাকে সাংগঠনিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, তিনি কেন এ ধরনের কাজ করেছেন। আর বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, ‘কোনো প্রার্থী বা ভোটারদের উদ্দেশে রুবেল বেপারী নামে কেউ কোনো হুমকি স্বরূপ কথা বলেছেন, এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। আর এ ধরনের বক্তব্যর বিষয়ে আমি অবহিত নই। কোনো অভিযোগ পেলে আচরণবিধি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’