বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

প্রকাশ্যে ভোটের ছবি তোলা নিয়ে সংঘর্ষে প্রার্থী-সাংবাদিকসহ আহত ২০

 ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে জেলার জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ভিডিও ধারণ করতে যাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজির সমর্থকদের হামলায় অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রতন, স্থানীয় ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

আহত সাংবাদিকদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ভোট কেন্দ্রটি প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, আহত সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইদ্রিস ফরাজী।

বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সেনেরচর ফরাজী দারুস সুন্নাহ নুরানি হাফিজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থকরা প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক কর্মরত সাংবাদিকরা সেই চিত্র ধারণ করতে চাইলে প্রার্থীর অর্ধ শতাধিক সমর্থক লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।

এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রতন, দৈনিক সংবাদের জাজিরা উপজেলা প্রতিনিধি পলাশ খান, স্থানীয় বার্তা বাজারের প্রতিনিধি আশিকুর রহমান হৃদয়, যায়যায়দিনের জাজিরা উপজেলা প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন, দৈনিক জবাবদিহির জাজিরা প্রতিনিধি সুজন মাহমুদ, বাংলাদেশ সমাচারের রুহুল আমিন ও কালবেলার জাজিরা প্রতিনিধি আব্দুর রহিম, মতিউর রহমান দেওয়ান (২৮), আবদুর রাজ্জাক মিয়া (৪৫), পল্টু খান (৫৭), তারা মিয়াসহ (৪৮) অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দৈনিক সংবাদের জাজিরা উপজেলা প্রতিনিধি পলাশ খান বলেন, আমরা ভোট কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছিলাম। এক প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করছেন- এমন খবরের চিত্র ধারণ করতে গেলে ৫০-৬০ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়।

জাজিরা থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বেলা ১১টার দিকে ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুনরায় ভোট গ্রহণের পরিবেশ সৃষ্টি করে অন্য কেন্দ্রে চলে যাই। এ বিষয়ে আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, সেনেরচর ফরাজী দারুস সুন্নাহ নুরানি হাফিজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকসহ আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আধা ঘণ্টার মধ্যেই আমরা স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালু করি