বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

রেমালের তাণ্ডব: এবারও ‘ঢাল হয়েছে’ সুন্দরবন

ঝড়ের সময়ে সুন্দরবন নিজে লড়াই করে ক্ষতবিক্ষত হলেও উপকূলের তেমন ক্ষতি হতে দেয় না।

 

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাত ও ভারী বৃষ্টিপাতে উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে; প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।

ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর ও গাছপালা। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘের; জমির ফসল।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ অংশে ছয় হাজারের বেশি বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন।

 

উপকূলবাসী মনে করছেন, বরাবরের মতো এবারও প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব থেকে উপকূল রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবন। নিজে লড়াই করে ঘূর্ণিঝড় থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষা করছে এই বন।

সুন্দরবনের কারণে এবারও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ‘কম’ হয়েছে বলে মনে করেন খুলনা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ।

তিনি বলেন, “ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের যে বাতাসের বেগ, সেটি ছিল ৯০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। এটি যখন উপকূলে আঘাত হেনেছে; তখন উপকূল এলাকায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের বেগ ছিল।

“ঝড়গুলো যে বেগে আসে, সেই তুলনায় ভূমিতে কম বেগে প্রবেশ করে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, এটা অতিক্রম করে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে। সুন্দরবন এলাকায় এটা যখন প্রথমে ওঠে তখন দেখা যায়, বাতাসের যে সর্বোচ্চ গতি থাকে সেটা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। পরে সামনে আগালেও সে গতিটা থাকে না।“

 

খুলনার সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লাইমেট মুভমেন্ট’ এর সমন্বয়ক শর্মিলা সরকার বলেন, “সুন্দরবন যেন উপকূল এলাকায় প্রকৃতির দেয়াল। বাংলাদেশে ঝড় প্রবেশের মুখেই সুন্দরবনের অবস্থান।

“এর কারণে ঝড় প্রবেশ করতেই বনে বাধার সম্মুখীন হয়। এতে বনের গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হলেও লোকালয়ে বড় দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে।”

খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল বলছিলেন, ভৌগোলিকভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার জনপদ ও বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে সুন্দরবনের অবস্থান। গাছপালায় আচ্ছাদিত সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কম টের পেয়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল ও বঙ্গোপসাগর তৎসংলগ্ন এলাকার মানুষ। রেমাল উপকূলে আঘাত হানার সময় জলোচ্ছ্বাসের পানির উঁচু চাপও ঠেকিয়েছে এই বন।

ননী গোপাল বলেন, “ঝড়ের সময়ে সুন্দরবন নিজে লড়াই করে ক্ষতবিক্ষত হলেও উপকূলের তেমন ক্ষতি হতে দেয় না। তবে ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট উঁচু জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুন্দরবনের হরিণ, বানর, বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।

“এছাড়া মিঠাপানির পুকুর তলিয়ে যাওয়ার কারণে বনের প্রাণিকুল ও বনকর্মীদের বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে।”