বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

আধিপত্যের দ্বন্দ্বে পুড়ল ইউপি সদস্যের বাড়ি

জাজিরার মূলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ইউপি সদস্য জামাল খাঁর বাড়ি

 

শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে ইউনিয়নের মূলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান তা অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে,বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সদস্য জলিল মাদবরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী জলিলের সমর্থক ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল খাঁ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন করায় নির্বাচনের পর থেকেই ইউপি সদস্যের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী।

বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গত শুক্রবার কুদ্দুস ব্যাপারীর ছোট ভাই সিদম ব্যাপারী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর গতিরোধ করে মারধরের অভিযোগ ওঠে ইউপি সদস্যের লোকজনের বিরুদ্ধে। এর জেরে শুক্রবার রাত ১টার দিকে চেয়ারম্যানের ভাই ইদ্রিস ও নূর ইসলাম, ভাতিজা ইমন, নাহিদ ব্যাপারীসহ অন্তত ২০ জন ইউপি সদস্যের বসতবাড়িতে যান।

এ সময় বাড়ির সদস্যদের জিম্মি করে প্রথমে লুটপাট ও পরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। এতে ইউপি সদস্য ছাড়াও তাঁর ভাই মিন্টু ও সেন্টু খাঁর চারটি বসতবাড়ি ও তিনটি রান্নাঘর পুড়ে যায়। চেয়ারম্যানের ভাই ইদ্রিসসহ তাদের লোকজন এসে ঘরে ঢুকে সবাইকে বের করে দেয় বলে জানান জামাল খাঁয়ের মা হাজেরা বেগম। তিনি বলেন, তারা আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় সবকিছু পুড়ে গেছে। কাউকেই কাছে আসতে দেয়নি। শুধু বোমা মেরেছে।

জামাল খাঁর ফুফু রাশিদা বেগম বলেন, ‘২৮ দিনের মধ্যে এলাকায় দুটি মার্ডার হইছে। সবগুলা ওরা করছে। কিন্তু পুলিশ আমাগো কথা শুনে না। থানায় গেলে আমাগো কেস না নিয়া দূর দূর কইরা তাড়াইয়া দেয়। এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান সব ওগো দলের লোক। এই সাহসেই ওরা আমাগো বাড়িতে আগুন দিল। সব পুড়ে শ্যাষ হয়ে গেছে। আমরা যে পথের ফকির হইয়া গেলাম।’
এলাকার একটি হত্যা মামলার সাক্ষী ইউপি সদস্য জামাল খাঁ। তাঁর ভাষ্য, অপর পক্ষের আরেকটি হত্যাকাণ্ড হলে চেয়ারম্যান তাঁকে আসামি করে বাড়িছাড়া করেছেন। তাঁর বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর লোকজন। তিনি এর বিচার চান।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ভাই সিদম বাড়ি ফেরার পথে হাত-পা ভেঙে ফেলেছে জামাল খাঁ আর তাঁর ছেলে। এখন অনেকে মনে করতে পারেন, আমরা প্রতিশোধ নিতে জামালের বাড়িঘর ভেঙে ফেলেছি, আগুন দিয়েছি। এটি সত্য না। জামাল নিজে বাঁচতে ষড়যন্ত্র করে বাড়িতে আগুন  দিয়েছে। আমার জীবনে আমি কখনও বোমা ধরিনি।’

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বিলাসপুরে দু’গ্রুপের বোমা হামলায় আহত হয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি সজীব মুন্সি গত ২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি মিয়া চান মুন্সিকান্দি গ্রামের মো. আলী মুন্সির ছেলে। সংঘর্ষের সময় বোমার আঘাতে তাঁর পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে।
গত ২৪ এপ্রিল দু’গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এতে সৈকত সরদারসহ চারজন ককটেল ও হাত বোমার আঘাতে আহত হন। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ এপ্রিল মারা যান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের কাশেম সরদারের ছেলে সৈকত।