বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫

মানবেতর জীবনযাপন করবেন না মুক্তিযোদ্ধারা: প্রধানমন্ত্রী

দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা মানবেতর জীবনযাপন করবেন না। বুধবার পাঁচ জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাঁচ হাজার বাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অসচ্ছল ও প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’-এর চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যোগ দেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলা যুক্ত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবেন বা রিকশা চালাবেন বা মানবেতর জীবনযাপন করবেন-আমি ক্ষমতায় থাকতে অন্তত এটা কখনো হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তা এখন ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের ঘরবাড়ি নেই এবং মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন, সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। তাই আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করে তাদের জীবন-জীবিকা এবং চিকিৎসা-যাতায়াতসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বর্তমানে ১৭ হাজার ৬৬০টি বীর নিবাসের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে। আশা করি, এ বছরের মধ্যে ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। যদিও করোনাভাইরাস মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের খুবই হিসাব করে চলতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ আর থামাতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আমরা গড়ে তুলব-এটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর যেন আর কারও কাল থাবা না পড়ে, সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিচ্ছে। দলমতনির্বিশেষে সব মুক্তিযোদ্ধার জন্য সম্মানের ব্যবস্থা আমরা করেছি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলমতনির্বিশেষে সব বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য সম্মান এবং মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশি বন্ধু ও মিত্র শক্তির সদস্যদের সম্মান দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে যারা যুদ্ধ করে বিজয় এনেছেন, তাদের সম্মান জানানো আমাদের কর্তব্য মনে করি। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা মারা গেলে রাষ্ট্রীয় সম্মান যেন পায়, সেই ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা যেন বংশপরম্পরায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়, সেই ব্যবস্থাও আমরা করেছি। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এখনো অনেক জায়গা অনাবিষ্কৃত রয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। ইতোধ্যে প্রায় ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ২৯৩টি উপজেলার ৩৬০টি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আলাদা মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান এমপি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ‘বীর নিবাস’-এর চাবি হস্তান্তর করেন পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসকরা। অনুষ্ঠানে ‘বীর নিবাস’-এর ওপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। দুটি শয়নকক্ষ, একটি বসার ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি করিডরসহ একতলাবিশিষ্ট প্রতিটি ‘বীর নিবাস’ ১৪ দশমিক ১০ লাখ টাকায় নির্মিত এবং দেশের জাতীয় পতাকার রং লাল-সবুজে করা।

বাংলাদেশে কোরীয় ব্যবসায়ীদের আরও বিনিয়োগের আহ্বান : বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে কোরিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের দূত এবং ভবিষ্যৎ কৌশলবিষয়ক সিনিয়র সচিব জাং সুং মিন বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কোরিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে কোরিয়া বিশেষ করে টেক্সটাইল ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা করে আসছে। বৈঠকে কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত জাং সুং মিন বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা জানতে পেরে তিনি ‘মুগ্ধ ও আপ্লুত’ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।