বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে লোকালয়ে হনুমান

 

শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের চর সোনামুখী গ্রামের লোকালয়ে হঠাৎ একটি হনুমান এসেছে। তিন দিন ধরে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে হনুমানটি। মানুষের বাড়ির উঠান, গাছ ও ঘরের চালায় ঘোরাঘুরি করছে। সেই সঙ্গে মানুষের দেওয়া কলা, ফলমূল ও বিস্কুট খাচ্ছে। খাওয়া শেষে আবার হনুমানটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যায়। আজ বুধবার সকালেও হনুমানটি গ্রামে দেখা গেছে।

রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ঢালী বলেন, একটি হনুমান এলাকায় আসার খবর শুনেছেন। হনুমানটি কোথা থেকে কীভাবে এসেছে, তা কেউ বলতে পাচ্ছেন না। হনুমানটি যদি এলাকায় থাকে, তাহলে খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হবে।

গ্রামবাসীর ভাষ্য, সোনামুখী গ্রামের দাড়িয়াবাড়ির বটগাছে গত সোমবার হনুমানটিকে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। পরে হনুমানটি মানুষের বাড়ি এলে তারা তাকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে হনুমানটি বিনয় দাড়িয়ার ঘরের সামনে খাবারের জন্য বসে ছিল। পরে বাড়ির লোকজন তাকে খাবার দেন। খাবার খেয়ে হনুমানটি গ্রামের একটি বাগানে চলে যায়। আবার বেলা ১১টার দিকে মজুমদারবাড়ির কাছে এসে বসে থাকে। তখন ওই বাড়ির লোকজন হনুমানটিকে কলা, শসা ও বিস্কুট খেতে দেন। ঘণ্টাখানেক বসে ওই খাবার খেয়ে হনুমানটি বাগানের দিকে চলে যায়। হনুমানটির খাবারের প্রয়োজন হলেই মানুষের বসতবাড়িতে এসে বসে থাকে। খাবার খেয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাগানের গাছে ছুটে বেড়ায়।

মঞ্জু রানী মজুমদার বলেন, প্রথমে হনুমানটি দেখে ভয় পেয়েছিলেন। পরে ক্ষুধার জন্য হনুমানটির কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। গাছের বাকল খাচ্ছিল দেখে তাঁর মায়া লাগে। তখন ঘর থেকে কলা নিয়ে এসে হনুমানকে খেতে দেন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট তাঁর পাশে বসে কলাগুলো খেয়ে আবার চলে যায়।


চর সোনামুখী গ্রামের কণিকা রানী দাড়িয়া, বীণা দাড়িয়া ও বাবুল মজুমদার বলেন, তাঁদের গ্রামে এর আগে কেউ হনুমান দেখেননি। তিন দিন ধরে হনুমানটি গ্রামে ঘোরাঘুরি করছে। মাঝেমধ্যে খাবারের সন্ধানে বসতবাড়িতে আসছে। খাবার পেলে খেয়ে আবার চলে যায়। হনুমানটি কোনো মানুষকে বিরক্ত করছে না।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র শরীয়তপুর  চোখকে বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে কলাসহ বিভিন্ন ফলমূল শরীয়তপুরে আনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ফলের ট্রাকে চড়ে হনুমানটি শরীয়তপুরে চলে এসেছে। এখানে তার চাহিদা অনুযায়ী খাবার পেলে থেকে যাবে। আর খাবার না পেলে অন্য কোথাও চলে যাবে। বন বিভাগের মাধ্যমে হনুমানটির খোঁজখবর রাখা হবে।