বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লাকে বিশেষ সম্মাননা

 

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের যে কিন্নরী কণ্ঠের প্রশংসা চিরকালের, তিনি রুনা লায়লা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সংগীত-তারকা গানে গানে মাতিয়ে রেখেছেন ছয় দশকের বেশি সময়। গানপ্রিয় মানুষের তৃষ্ণা মিটিয়েছেন জনপ্রিয় সব গান উপহার দিয়ে।

শেষ পর্যন্ত্র অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা একটি ক্লাসিক্যাল রাগ গাইলেন। সবাই দেখল মাত্র ছয় বছরের একটি মেয়ে, তানপুরা যার চেয়ে অনেক বড়, সে বসে বসে গাইছে। গান শুনে সবাই খুশি। অ্যাওয়ার্ড পেলেন, সঙ্গে কিছু ক্যাশপ্রাইজও। বয়স যখন নয় বছর, তখন ইন্টার স্কুল মিউজিক কম্পিটিশন হয়েছিল রেডিও পাকিস্তানের উদ্যোগে। কিন্তু রুনা লায়লা ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রী বলে আয়োজকরা নিতে চাননি। তাদের কথা শুধু উর্দু মিডিয়ামের যারা, তারাই অংশ নিতে পারবে। শেষ পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে রুনাকে গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো এবং একটি গজল গেয়ে প্রথম হন তিনি।

ওই সময় থেকেই গানের চর্চা আরও বেশি করে শুরু হলো রুনার। করাচিতে ‘জুগনু’ চলচ্চিত্রে রুনা লায়লা প্রথম গান করেন। গানটি ছিল ‘গুড়িয়াসি মুন্নী মেরি ভাইয়া কী পেয়ারি। ১৯৭৪-এ বাংলাদেশে এলেন রুনা লায়লা। সে বছরের শেষে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে গেলেন তিনি। সেখানেই প্রথম পরিচয় হয় লতা মুঙ্গেশকরের সঙ্গে। দেশে ফিরে প্রয়াত সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ ছবিতে প্রথম গান করেন। গানের কথা ও জীবন সাথী তুমি আমার। এ গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। ইন্দিরা রোডের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডিওতে গানটি ধারণ করা হয়। সে বছরই বিটিভিতে একটি অনুষ্ঠানে গাইবার সুযোগ পান রুনা লায়লা। দেবু ভট্টাচার্যের সুরে ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের লেখা পাঁচটি গান ধারণ করা হয় অনুষ্ঠানটির জন্য। সে অনুষ্ঠানে তিনি পোশাকে পরিবর্তন আনলেন। একটু নেচে গান পরিবেশন করলেন। ব্যস, সবার দৃষ্টি পড়ল রুনা লায়লার দিকে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল তার গালার সুনাম।

বাংলাসহ হিন্দি, উর্দু, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, পশতু, বেলুচ, আরবি, পারসিয়ান, মালয়, নেপালি, জাপানি, ইতালীয়, স্প্যানিশ, ফরাসি, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রুনা। ক্যারিয়ারজুড়ে পেয়েছেন নানা পুরস্কার।