বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

ভারতীয় দুই বন্দীর লাশ নিয়ে বিপাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল

ভারতীয় দুই বন্দীর লাশ হস্তান্তর করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে পদ্মা সেতু এলাকা থেকে আটকের পর তাঁরা শরীয়তপুর জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন গত ১৮ জানুয়ারি এবং আরেকজন গত শনিবার রাতে মারা যান।

শরীয়তপুর জেলা কারাগার সূত্র জানায়, অনুপ্রবেশের অভিযোগে থানায় করা মামলায় গত জানুয়ারিতে ৪৬ জন ভারতীয় নাগরিক শরীয়তপুর জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আটজন নারী।

গত ১৮ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ভারতীয় নাগরিক সত্যেন্দ্র কুমার (৪০) মারা যান। তাঁর বাড়ি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মাথুরা জেলার চেয়ারপুর এলাকায়। গত বছরের ৮ অক্টোবর পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত এলাকা থেকে তাঁকে আটক করেন সেনা সদস্যরা। এরপর জাজিরা থানায় করা বাংলাদেশ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। এর পর থেকে তাঁর লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মরদেহ রাখার ফ্রিজে রাখা হয়েছে। গত শনিবার রাতে জেলা কারাগারে বন্দী বাবুল সিং (৩৮) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। গতকাল রোববার ময়নাতদন্ত শেষে বাবুল সিংয়ের মরদেহ সদর হাসপাতালের মরদেহ রাখার ফ্রিজে রাখা হয়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কোনো হিমাগার নেই। হাসপাতালের নিচতলায় একটি কক্ষে একটি ফ্রিজে তিন থেকে চারটি লাশ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই ফ্রিজে দুটি লাশ রাখা হয়েছে। হাসপাতালের জেনারেটরে সক্ষমতা কম হওয়ায় ফ্রিজটিতে জেনারেটরের সংযোগ দেওয়া যায়নি। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডসেডিংয়ের কারণে লাশে পচন ধরার আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে লাশ রাখার একটি ফ্রিজ। সেটিতে মূলত ময়নাতদন্তের জন্য আনা লাশ রাখা হয়। সেখানে তিনটি লাশ রাখা যায়। তার মধ্যে দুজন ভারতীয় নাগরিকের লাশ রাখা হয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের জন্য আনা লাশ রাখতে সমস্যা হবে। এখানে দীর্ঘ দিন লাশ রাখা জটিল। বিদ্যুতের লোডসেডিং থাকে। আমাদের নিজস্ব জেনারেটরের সক্ষমতা কম। এ অবস্থায় ওই লাশগুলো ঢাকায় নেওয়া হলে ভালো হতো।’

শরীয়তপুর জেলা কারাগারের উপজেলার রাকিব শেখ বলেন, গত জানুয়ারিতে ৪৬ জন ভারতীয় নাগরিক শরীয়তপুর জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন। ওই ৪৬ বন্দীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ২৩ জন বন্দীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ২২ জন ভারতীয় নাগরিক বন্দী আছেন।

জেল সুপারের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আবদুর রহিম  বলেন, দুই বন্দীর মৃত্যুর খবর তাৎক্ষণিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দুই ভারতীয় নাগরিকের লাশ ফ্রিজে রাখা হয়েছে। তাঁদের লাশ ঢাকায় নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মরদেহ দুটি আপাতত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, দুই ভারতীয় বন্দীর লাশ ঢাকায় নেওয়ার জন্য আইজি প্রিজনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর ওই লাশ দুটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আপাতত লাশ দুটি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হবে।